গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, ধারা-১৭ : অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
এটাকে একদম সহজ ভাষায় ভেঙে ভেঙে বুঝে নিনঃ 👇
১. এই ধারার মূল কথা কী?
সরকারকে সব শিশুর জন্য শিক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে। যাতে টাকার অভাবে বা অন্য কোনো কারণে কেউ পড়াশোনা থেকে বাদ না পড়ে।
২. রাষ্ট্রকে ৩টা প্রধান কাজ করতে বলা হয়েছে:
|
কী করতে হবে |
সহজ ভাষায় মানে কী |
|
ক) একই রকম, সবার জন্য, ফ্রি ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা |
১.
একই পদ্ধতি: ধনী-গরিব,
শহর-গ্রাম সব
বাচ্চা যেন একই মানের শিক্ষা পায়। বাংলা মিডিয়াম, ইংলিশ মিডিয়াম,
মাদ্রাসা—এমন ভাগ না করে একটা মূল ধারার
গণমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা। |
|
খ) কাজের শিক্ষা ও ভালো নাগরিক তৈরি |
শুধু বই পড়লেই হবে না। এমন পড়াশোনা করাতে হবে যাতে পাস করে ছেলেমেয়েরা চাকরি পায়, ব্যবসা করতে পারে, দেশের কাজে লাগে। এর জন্য দরকার কারিগরি শিক্ষা, কম্পিউটার শিক্ষা। আর শুধু দক্ষ না, সৎ, দেশপ্রেমিক, দায়িত্বশীল নাগরিকও তৈরি করতে হবে। |
|
গ) নির্দিষ্ট সময়ে নিরক্ষরতা দূর করা |
দেশে একজন মানুষও যেন লিখতে-পড়তে না পারা অবস্থায় না থাকে। সরকারকে আইন করে একটা সময় বেঁধে দিতে হবে—যেমন ১০ বছরের মধ্যে—এবং সেই সময়ের মধ্যে সব বয়স্ক মানুষকেও অক্ষরজ্ঞান দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। গণশিক্ষা, নৈশ বিদ্যালয় এসব তার উদাহরণ। |
৩. এক লাইনে সারমর্ম
সরকারের দায়িত্ব হলো—সব বাচ্চাকে একই রকমের ভালো স্কুলে ফ্রিতে পড়ানো, তাদেরকে দেশের কাজে লাগার মতো দক্ষ ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, আর পুরো দেশ থেকে নিরক্ষরতা চিরতরে দূর করা।
মনে রাখার মতো বিষয়: এটাও রাষ্ট্র পরিচালনার "মূলনীতি"। মানে এই লক্ষ্যগুলো সামনে রেখে সরকার শিক্ষা নীতি বানাবে, বাজেট দেবে, নতুন স্কুল করবে, উপবৃত্তি দেবে। সরাসরি এই ধারা দেখিয়ে মামলা করা যায় না, কিন্তু সরকার যদি এসব না করে তাহলে সেটা সংবিধানের চেতনার বিরুদ্ধে যাবে।
Comments
Post a Comment