বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে নরওয়ে বধ, রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড
শুরুতেই সুযোগ নষ্ট ইংল্যান্ডের
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। ইংল্যান্ড প্রথম কয়েক মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল। লিয়াম ও'রিলি এবং ননি মাদুয়েকে নরওয়ের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।
প্রথম দশ মিনিটের পর ধীরে ধীরে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় নরওয়ে। মাঝমাঠে মার্টিন ওডেগার্ডের নেতৃত্বে তারা ইংল্যান্ডের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়াতে থাকে।
শজেল্ডারআপের গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে
ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে নরওয়ের পক্ষে। প্যাট্রিক বার্গের চ্যালেঞ্জে ইংল্যান্ডের এক খেলোয়াড় মাটিতে পড়ে গেলে মুহূর্তের সুযোগ কাজে লাগান মার্টিন ওডেগার্ড।ওডেগার্ডের নিখুঁত পাস থেকে আন্দ্রেয়াস শজেল্ডারআপ দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড চেষ্টা করেও বল ঠেকাতে পারেননি।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন ফাউলের দাবি জানালেও রেফারি গোলটি বহাল রাখেন। ফলে নরওয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
বেলিংহ্যামের সমতায় ফেরা
অ্যান্থনি গর্ডনের অসাধারণ পাস থেকে জুড বেলিংহ্যাম নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ১-১ সমতায় ফেরান। গোলটি ইংল্যান্ডকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগায়।
এর কিছুক্ষণ পর হ্যারি কেনও বল জালে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকা ওঠায় সেই গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
ভিএআরে বাতিল নরওয়ের দ্বিতীয় গোল
দ্বিতীয়ার্ধে কর্নার থেকে টরবজর্ন হেগেমের হেডে বল জালে গেলে নরওয়ের সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) ঘটনার পুনরালোচনা করে দেখতে পায় যে কর্নার থেকে বল আসার আগে নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ধাক্কা দিয়েছিলেন।
ফলে রেফারি গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন এবং ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে ইংল্যান্ডের এগিয়ে যাওয়া
ইংল্যান্ডের মর্গ্যান রজার্স দূরপাল্লা থেকে শক্তিশালী শট নেন। নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নাইল্যাণ্ড বলটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে ফিরতি বলের সামনে উপস্থিত ছিলেন জুড বেলিংহ্যাম।
সুযোগসন্ধানী এই মিডফিল্ডার কোনো ভুল না করে বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের জয়সূচক গোলটি করেন। এর মাধ্যমে ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা
ম্যাচের শেষদিকে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। জেদ স্পেন্স বক্সের ভেতরে পড়ে গেলে রেফারি প্রথমে ইংল্যান্ডকে পেনাল্টি দেন। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়।
রিপ্লেতে দেখা যায়, স্পেন্স নিজেই ডিফেন্ডারের সামনে পা বাড়িয়ে সংস্পর্শ তৈরি করেছিলেন। ফলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।
শেষ মুহূর্তে বুকায়ো সাকা এবং জেদ স্পেন্স আরও দুটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু নরওয়ের গোলরক্ষক নাইল্যাণ্ড অসাধারণ ডাবল সেভ করে দলকে আরও বড় পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। জুড বেলিংহ্যামের অনবদ্য জোড়া গোল, দৃঢ় মানসিকতা এবং চাপের মুহূর্তে কার্যকর ফুটবলের প্রদর্শনী ইংল্যান্ডকে এনে দিয়েছে মূল্যবান জয়।
২-১ ব্যবধানে নরওয়েকে হারিয়ে ইংল্যান্ড এখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। শিরোপার স্বপ্নকে আরও এক ধাপ কাছে নিয়ে যেতে তারা এখন অপেক্ষা করছে পরবর্তী মহারণের জন্য।



Comments
Post a Comment