মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’র ভিত্তি হিসেবে দেখতে চায় পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:


সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মুসলিম দেশগুলোকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানোর পর চুক্তিটির ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও পরিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরাইল-এর এক প্রতিবেদনে ইতালীয় রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক সার্জিও রেস্তেল্লি মন্তব্য করেছেন, পাকিস্তান হয়তো মক্কা চুক্তিকে কেবল তিন দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না। বরং ইসলামাবাদের একটি অংশ এটিকে বৃহত্তর মুসলিম সামরিক জোটের ভিত্তি হিসেবে দেখতে আগ্রহী।

মক্কায় স্বাক্ষরিত চুক্তির মূল কাঠামো অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, এটি একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে একটি সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও যৌথ নিরাপত্তার প্রশ্নে সম্পৃক্ত হবে।

তবে চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট দেশকে শত্রু বা সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। রেস্তেল্লির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্য সেই জায়গাতেই নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

পাকিস্তানের বৃহত্তর সামরিক জোটের ধারণা

খাজা আসিফের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাকিস্তান মনে করে ইসরাইলের নিরাপত্তা-হুমকি শুধু ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের ওপরও পড়তে পারে। এই অবস্থান থেকেই মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তান ঐতিহাসিকভাবে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি। দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইলবিরোধী অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ তিন দেশই সামরিক ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, যদিও তাদের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের অবস্থান এক নয়।

তিন দেশের সামরিক সক্ষমতার সমন্বয়

চুক্তির গুরুত্বের অন্যতম কারণ হলো তিন অংশীদারের ভিন্ন ধরনের কৌশলগত সক্ষমতা।

তুরস্ক ন্যাটোর অন্যতম প্রধান সামরিক শক্তি। দেশটির রয়েছে বড় ও অভিজ্ঞ সামরিক বাহিনী, দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা এবং দ্রুত বিকাশমান নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প।

সৌদি আরবের প্রধান শক্তি তার বিপুল অর্থনৈতিক সামর্থ্য, বড় প্রতিরক্ষা বাজেট এবং আরব ও মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোতেও রিয়াদের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার। এর পাশাপাশি দেশটির রয়েছে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পেশাদার সামরিক বাহিনী এবং সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অভিজ্ঞতা।

এই তিন দেশের সামরিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সক্ষমতা একত্রিত হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা রাজনীতিতে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

পাকিস্তানের নিজস্ব নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জও রয়েছে

তবে পাকিস্তান নিজেই একাধিক নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির সঙ্গে সংঘাত ইসলামাবাদের জন্য দীর্ঘদিনের বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ।

এ ছাড়া বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে জটিল করে তুলেছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরেও বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষ এবং বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ফলে একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সামরিক জোটে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানকে নিজের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হবে।

ইসরাইল ইস্যুতে তিন দেশের অবস্থান এক নয়

মক্কা চুক্তিকে ভবিষ্যতে একটি বৃহত্তর মুসলিম সামরিক জোটে রূপ দেওয়ার সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হতে পারে সদস্য দেশগুলোর ইসরাইল-নীতি।

তুরস্ক ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের আমলে গাজা যুদ্ধ ও ফিলিস্তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি হয়েছে।

সৌদি আরবের অবস্থান আরও সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ। রিয়াদ এখনো ইসরাইলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। একই সময়ে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সৌদি অবস্থান স্পষ্ট। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

এই সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সৌদি আরবের বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত পরিকল্পনাও। ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত যোগাযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের আঞ্চলিক প্রকল্পে সৌদি-ইসরাইল সহযোগিতার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।

ফলে মক্কা চুক্তিকে সরাসরি ইসরাইলবিরোধী সামরিক জোট হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হলে সৌদি আরবকে একই সঙ্গে একাধিক কৌশলগত সমীকরণ সামলাতে হবে।

ভারতও গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ

মক্কা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় ভারতের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক এবং কাশ্মীর ইস্যুতে বিরোধের কারণে ইসলামাবাদ তার নিরাপত্তা নীতিতে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু সৌদি আরব ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনীতি, জ্বালানি, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।

তাই পাকিস্তান যদি মক্কা চুক্তিকে ভবিষ্যতে ভারত বা ইসরাইলবিরোধী বৃহত্তর সামরিক কাঠামোর কেন্দ্রে পরিণত করতে চায়, তাহলে সৌদি আরবের জন্য বিষয়টি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

ন্যাটোর সঙ্গে তুলনা কতটা বাস্তবসম্মত?

মক্কা চুক্তিকে ইসলামিক ন্যাটো হিসেবে দেখার ধারণা নতুন নয়। বহু বছর ধরে মুসলিম বিশ্বের একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের আলোচনা হয়েছে। তবে বাস্তবে বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন নিরাপত্তা অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পররাষ্ট্রনীতির কারণে সেই উদ্যোগগুলো কার্যকর সামরিক জোটে পরিণত হয়নি।

ন্যাটো তুলনামূলকভাবে সফল হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল এর সদস্যদের মধ্যে অভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে বিস্তৃত ঐকমত্য। মুসলিম বিশ্বে সেই ধরনের ঐকমত্য এখনো স্পষ্ট নয়।

ইরান, ইসরাইল ও ভারতএই তিনটি রাষ্ট্রকে ঘিরে মুসলিম দেশগুলোর অবস্থান এক নয়। কোনো দেশের কাছে ইরান প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগ, কোনো দেশের কাছে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকট বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আবার অন্যদের কাছে ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক অগ্রাধিকার পায়।

এই বাস্তবতায় তিন দেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করা সম্ভব হলেও সেটিকে দ্রুত একটি সর্বব্যাপী মুসলিম সামরিক জোটে রূপ দেওয়া সহজ হবে না।

সৌদি আরবের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত পরীক্ষা

মক্কা চুক্তির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করবে সৌদি আরব ও তুরস্ক কতটা আগ্রহ নিয়ে পাকিস্তানের বৃহত্তর পরিকল্পনাকে গ্রহণ করে তার ওপর।

রিয়াদের জন্য পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে। কিন্তু একই চুক্তিকে যদি স্পষ্টভাবে ইসরাইল বা ভারতের বিরুদ্ধে একটি সামরিক জোট হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, তাহলে সৌদি আরবকে কঠিন কূটনৈতিক ভারসাম্যের মুখোমুখি হতে হবে।

একদিকে সৌদি আরব নিজেকে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও ধর্মীয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাখতে চায়। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে তার অবস্থান রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রশ্নও রয়েছে।

ফলে রিয়াদের জন্য কোনো বৃহত্তর সামরিক জোটের অংশ হওয়া মানেই শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূরাজনীতি।

সামনে দুটি সম্ভাব্য পথ

মক্কা চুক্তি শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

প্রথম সম্ভাবনা হলোচুক্তিটি তিন দেশের মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা কাঠামো হিসেবেই থাকবে। এ ক্ষেত্রে এর মূল লক্ষ্য হবে সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সম্ভাব্য আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলোপাকিস্তানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এটি ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত মুসলিম নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তি হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোও এতে যুক্ত হতে পারে।

কিন্তু দ্বিতীয় পথটি বাস্তবায়নের জন্য শুধু সামরিক সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন হবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন নিরাপত্তা নীতি, রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সম্পর্কে পরিষ্কার অবস্থান।

এই জায়গাতেই মক্কা চুক্তির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

চুক্তিটি কি কেবল পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা সমঝোতা হয়ে থাকবে, নাকি এটি মুসলিম বিশ্বের একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর সূচনা করবেতা নির্ধারণ করবে আগামী দিনের আঞ্চলিক রাজনীতি।

পাকিস্তান ইতোমধ্যেই চুক্তিটিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো, সৌদি আরব ও তুরস্কও কি একই উচ্চাকাঙ্ক্ষা ভাগ করে নেয়?

সেই উত্তরই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারে মক্কা চুক্তির প্রকৃত ভবিষ্যৎএকটি সীমিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নাকি দক্ষিণ এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত নতুন কোনো নিরাপত্তা কাঠামোর প্রথম ভিত্তি।

 

Comments

Popular posts from this blog

আর্জেন্টিনা ৩-১ জর্ডান: ফ্রি-কিকের জাদুতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দাপুটে জয়, মাথা উঁচু রেখেই বিদায় জর্ডানের

বাংলাদেশে সামাজিক অবক্ষয়: আমরা কোন পথে হাঁটছি?

🎯 গোলটা লো সেলসোর, কিন্তু মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এমি মার্তিনেজ! মাঠেই ফাঁস হলো আর্জেন্টিনার গোপন কৌশল!