শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে সংসদে আলোচনায় রাজি ভারত সরকার, অমিত শাহের বক্তব্যের ইঙ্গিত
নয়াদিল্লি, ১০ আগস্ট ২০২৬:
তবে একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর প্রতি সংসদের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন রিজিজু। তাঁর বক্তব্য, সরকার আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধীদের তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজিজু বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করতে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। তবে আলোচনা চলাকালে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে সরকারের বক্তব্য বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব দেওয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
রিজিজুর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন বিরোধীরা শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করে আসছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সম্প্রতি দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অভিযানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো তদন্তের নির্দেশ দেননি এবং এ নিয়ে সংসদেও কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
রাহুল গান্ধীর দাবি, দিল্লিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ ও পেলেট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের ওপরও পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলেন তিনি।
বিহারের সিওয়ানেও শিক্ষার্থী বিক্ষোভের সময় আগ্নেয়াস্ত্র, এমনকি একে-৪৭ ব্যবহারের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন রাহুল গান্ধী। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং বলপ্রয়োগের অনুমোদন নিয়ে তিনি সরকারের কাছে জবাব দাবি করেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ থেকে বিক্ষোভ
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। গত ২০ জুলাই রাজধানীর যন্তর মন্তরে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
এই ঘটনার পর থেকেই বিরোধী দলগুলো সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করে আসছে।
রাজ্যসভাতেও উত্তাপ
এর আগে গত সপ্তাহে রাজ্যসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ২০ জুলাইয়ের পুলিশি অভিযানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করেন।
তখন রিজিজু বলেন, সংসদে কোন মন্ত্রী কখন বক্তব্য দেবেন, সে সিদ্ধান্ত বিরোধীরা নির্ধারণ করতে পারে না।
বিরোধীদের পক্ষ থেকে অমিত শাহ নিয়মিত সংসদে উপস্থিত থাকছেন না—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন রিজিজু। তাঁর দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিদিন সংসদ চত্বরে উপস্থিত থাকেন এবং সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সংসদের কার্যক্রমে যুক্ত থাকেন।
রিজিজু আরও অভিযোগ করেন, বিরোধীদের একটি অংশ অনেক সময় স্লোগান দিয়ে সংসদ থেকে বেরিয়ে যায় এবং সরকারপক্ষের বক্তব্য শোনে না। তাঁর আহ্বান, বিরোধীদের উচিত সংসদের কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটিয়ে সরকারের বক্তব্য শোনা এবং আলোচনায় অংশ নেওয়া।
রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মোড়
শিক্ষার্থী আন্দোলন এবং পুলিশের অভিযানের অভিযোগ নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনায় সরকারের সম্মতির ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি বক্তব্য ও সরকারের জবাবদিহি দাবি করে আসার পর এই অবস্থান সামনে এলো।
তবে আলোচনার সময় বিরোধী দলগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সরকার শিক্ষার্থী আন্দোলন ও পুলিশি অভিযানের অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেয়, সেটিই এখন সংসদীয় বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুতির কথা জানালেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ, পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের জবাব সংসদে কতটা বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

Comments
Post a Comment