অস্ট্রেলিয়াও দেখছে জয়ের সম্ভাবনা, ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

ডারউইন —

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার প্রথম টেস্ট এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে প্রতিটি সেশনই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। তৃতীয় দিন শেষে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছে। এখনও বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ থেকে ৬৭ রানে পিছিয়ে তারা। হাতে রয়েছে ছয় উইকেট।

বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি ইতিহাস গড়ার মতো সম্ভাবনাময়। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াও ম্যাচ থেকে নিজেদের পুরোপুরি সরিয়ে নেয়নি। পেসার জশ হ্যাজলউডের বিশ্বাস, যথেষ্ট সময় ব্যাট করতে পারলে ম্যাচের চিত্র আবারও বদলে দেওয়া সম্ভব।

৩০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েও দলের চিন্তায় হ্যাজলউড

তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে হ্যাজলউড ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার। তিনি ৮৯ রানে ছয় উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন।

এই পারফরম্যান্সের পথেই টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে মাত্র নবম বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন হ্যাজলউড।

তবে ব্যক্তিগত এই সাফল্যের চেয়ে ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতিই এখন তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

হ্যাজলউডের জন্য ৩০০ উইকেট নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। কিন্তু বাংলাদেশ ৪২৬ রান করার পর অস্ট্রেলিয়ার সামনে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন অস্ট্রেলীয় পেসারের মূল ভাবনা।

বাংলাদেশের ৪২৬, অস্ট্রেলিয়ার ওপর বড় চাপ

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে। ফলে সফরকারীরা পেয়েছে ২২৮ রানের বিশাল লিড

বাংলাদেশের ইনিংসে নিচের দিকের ব্যাটারদের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের লড়াকু ইনিংস দলকে বড় সংগ্রহে পৌঁছাতে সহায়তা করে।

অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণে হ্যাজলউড একাই ছয় উইকেট নিলেও বাংলাদেশের স্কোরকে বড় হওয়ার হাত থেকে আটকানো সম্ভব হয়নি।

দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারে ধস

২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতেই চাপে ফেলে বাংলাদেশের বোলাররা।

হাসান মাহমুদ অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্টিভ স্মিথ ৪৪ রানে আউট হন। তাইজুল ইসলাম ফেরান মার্নাস লাবুশেনকে, যিনি করেন ৩১ রান।

ফলে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৬১ রান।

তবে দিনের শেষ দিকে ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। গ্রিন ৪৩ রানে এবং ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটি অস্ট্রেলিয়ার আশাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য—প্রথমে লিড, তারপর বাংলাদেশকে চাপে ফেলা

হ্যাজলউডের মতে, চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম কাজ হবে যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় ব্যাট করা।

গ্রিন ও ক্যারিকে সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়া চাইবে প্রথমে বাংলাদেশের ৬৭ রানের ঘাটতি পূরণ করতে। এরপর যত বড় লিড তৈরি করা সম্ভব, সেটিই তাদের জয়ের সম্ভাবনা বাড়াবে।

পিচে কিছুটা অসমান বাউন্স দেখা যাচ্ছে। ফলে ম্যাচ যত এগোবে, ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়ের জন্যও পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া যদি বড় লিড তৈরি করতে পারে, শেষ দিনে বাংলাদেশের ১০টি উইকেট নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন আশাই দেখছেন হ্যাজলউড।

‘জয় এখনও আমাদের ভাবনায়’

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি এসেছে হ্যাজলউডের কাছ থেকেই—অস্ট্রেলিয়া এখনও জয়ের কথা ভাবছে।

পরিস্থিতি অবশ্যই বাংলাদেশের পক্ষে। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে একটি বড় জুটি কিংবা একটি দুর্দান্ত সেশন ম্যাচের গতিপথ আমূল বদলে দিতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার হাতে এখনো গ্রিন, ক্যারি, বিউ ওয়েবস্টারসহ আরও ব্যাটিং সামর্থ্য রয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে কাজ শেষ করতে হলে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ার পাশাপাশি চাপ ধরে রাখতে হবে।

বাংলাদেশের সামনে ঐতিহাসিক সুযোগ

বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি এখন শুধু আরেকটি টেস্ট নয়।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি টেস্ট জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্জন হতে পারে। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০২২ সালে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ; অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন জয় হবে আরও বড় মাইলফলক।

তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সামনে সমীকরণও পরিষ্কার—

অস্ট্রেলিয়ার আরও ছয়টি উইকেট নিতে পারলেই জয়ের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

কিন্তু সেই ছয় উইকেট নেওয়ার আগে গ্রিন ও ক্যারির প্রতিরোধ ভাঙতে হবে।

চতুর্থ দিনেই কি নির্ধারিত হবে ভাগ্য?

ম্যাচের চতুর্থ সকাল তাই দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ চাইবে নতুন দিনের শুরুতেই আক্রমণাত্মক বোলিং করে গ্রিন-ক্যারির জুটি ভেঙে দিতে।

অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য হবে ঠিক তার বিপরীত—প্রথম সেশনটি নিরাপদে পার করে বড় জুটি গড়ে তোলা।

বাংলাদেশের হাতে রয়েছে ৬ উইকেট নেওয়ার সুযোগ, আর অস্ট্রেলিয়ার সামনে রয়েছে প্রথমে ঘাটতি মেটানো এবং পরে যতটা সম্ভব লিড তৈরি করার চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের সামনে ইতিহাসের দরজা।

অস্ট্রেলিয়া এখনও দেখছে জয়ের পথ।

তৃতীয় দিন শেষে ব্যবধান মাত্র ৬৭ রান। তাই ডারউইনের এই টেস্টে এখন আর কোনো দলকেই নিরাপদ বলা যাচ্ছে না।

চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনই হয়তো ঠিক করে দেবে—বাংলাদেশ ইতিহাসের আরও কাছে যাবে, নাকি অস্ট্রেলিয়া অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখবে।

Comments

Popular posts from this blog

আর্জেন্টিনা ৩-১ জর্ডান: ফ্রি-কিকের জাদুতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দাপুটে জয়, মাথা উঁচু রেখেই বিদায় জর্ডানের

বাংলাদেশে সামাজিক অবক্ষয়: আমরা কোন পথে হাঁটছি?

🎯 গোলটা লো সেলসোর, কিন্তু মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এমি মার্তিনেজ! মাঠেই ফাঁস হলো আর্জেন্টিনার গোপন কৌশল!