আওয়ামী লীগকে পেটানোর রাজনীতি বন্ধের আহ্বান ফাহামের, ‘জুলুম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’

ঢাকা —

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে যাওয়া এক ব্যক্তিকে মারধরের একটি ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা ও নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ফাহাম।

শনিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধিতা বা মতপার্থক্যের কারণে কাউকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার পথ হতে হবে ন্যায়বিচার ও নীতির ভিত্তিতে, শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে নয়।

ফাহাম বলেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে যাওয়া এক ব্যক্তিকে কয়েকজন মিলে মারধর করছেন—এমন একটি দৃশ্য তিনি দেখেছেন। ঘটনাটির সত্যতা তিনি নিজে নিশ্চিত করতে পারেননি বলে উল্লেখ করলেও, তার ধারণা এটি তাদের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।

‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার সময় এসেছে’

নিজের বক্তব্যে ফাহাম রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলার সংস্কৃতি বন্ধ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হলেই তাকে মারধর করা বা হেনস্তা করার প্রবণতা বন্ধ করা প্রয়োজন।

তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে গিয়ে প্রতিশোধমূলক আচরণ অব্যাহত রাখলে নৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।

ফাহামের বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমাধান সহিংসতার মাধ্যমে হতে পারে না।

‘ইনসাফের মাধ্যমেই পরাস্ত করা সম্ভব’

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ফাহাম বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সময়ে ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়া উচিত।

তিনি যুক্তি দেন, প্রতিপক্ষের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তাদের পরাজিত করা সম্ভব নয়। বরং এ ধরনের আচরণ তাদের আরও প্রতিরোধী করে তুলতে পারে।

তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে হলে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক নীতির ওপর আস্থা রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে আটকে রাখা যায়নি। তাই একই ধরনের প্রতিশোধমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফল পাওয়া যাবে—এমন ধারণারও সমালোচনা করেন তিনি।

‘জুলুম কোনো পথ হতে পারে না’

ফাহামের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিশোধের বিরুদ্ধে তার অবস্থান।

তিনি বলেন, কোনো পক্ষের ওপর অন্যায় বা নির্যাতন চালানো হলে তা শেষ পর্যন্ত হামলাকারীদের নিজেদের নৈতিক অবস্থানকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তার ভাষায়, “জুলুম কোনো রাস্তা হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই বিরোধিতার কারণে সাধারণ মানুষকে ধরে মারধর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

‘নৈতিক অবস্থান হারাচ্ছি’

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ আচরণ শুধু ভুক্তভোগীদের ক্ষতি করে না, বরং একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেন ফাহাম।

তিনি মনে করেন, যারা সাধারণ মানুষকে ধরে মারধর করছেন, তারা শুধু অন্যায় করছেন না; একই সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকেও দুর্বল করে তুলছেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের আস্থা অর্জন

‘প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার’

ফাহাম স্পষ্ট করেন, আওয়ামী লীগের প্রতি কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহানুভূতি দেখানোর কথা তিনি বলছেন না।

বরং তার বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু হলো—রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং নির্যাতন এক বিষয় নয়।

কোনো দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা, তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে অবস্থান নেওয়া কিংবা নির্বাচনী ও সাংগঠনিকভাবে মোকাবিলা করা গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ হতে পারে।

কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে কাউকে আক্রমণ করা, মারধর করা বা ভয় দেখানো সেই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়।

রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে যাওয়া ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফাহামের মন্তব্য বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে—প্রতিশোধের মাধ্যমে, নাকি ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে?

তার বক্তব্য স্পষ্ট: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার জন্য সহিংসতার প্রয়োজন নেই।

বরং একটি রাজনৈতিক শক্তির দীর্ঘমেয়াদি গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে তার আচরণ, নৈতিক অবস্থান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের ওপর।

ফাহামের আহ্বানের মূল সুর তাই একটাই—

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকুক, তীব্র বিরোধিতাও থাকুক—কিন্তু সাধারণ মানুষের ওপর হামলা বা নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তার মতে, প্রতিশোধ নয়; ইনসাফই হতে পারে রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার পথ।

Comments

Popular posts from this blog

আর্জেন্টিনা ৩-১ জর্ডান: ফ্রি-কিকের জাদুতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দাপুটে জয়, মাথা উঁচু রেখেই বিদায় জর্ডানের

বাংলাদেশে সামাজিক অবক্ষয়: আমরা কোন পথে হাঁটছি?

🎯 গোলটা লো সেলসোর, কিন্তু মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এমি মার্তিনেজ! মাঠেই ফাঁস হলো আর্জেন্টিনার গোপন কৌশল!