বিশ্বকাপে আলোড়ন তোলা কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা যোগ দিলেন চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলোতে
বিশ্বকাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু; বললেন, ‘সবসময় বিশ্বাস করেছি বড় ক্লাবেই খেলার যোগ্য আমি’
সান্তিয়াগো, চিলি | আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ডেস্ক
মঙ্গলবার রাতে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভোজিনহা বলেন, ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথচলায় তিনি কখনোই নিজের সামর্থ্য নিয়ে সন্দিহান ছিলেন না।
“আমি হয়তো ছোট ছোট লিগ এবং তুলনামূলক কম পরিচিত ক্লাবে খেলেছি, কিন্তু নিজের ভেতরে সবসময় বিশ্বাস ছিল—একদিন বড় কোনো ক্লাবের জার্সি গায়ে তুলব। কোলো-কোলো যখন আমাকে প্রস্তাব দেয়, তখন সিদ্ধান্ত নিতে এক মুহূর্তও দেরি করিনি। অন্য ক্লাব থেকেও প্রস্তাব ছিল, কিন্তু আমার প্রথম পছন্দ ছিল কোলো-কোলো।”
বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়া কেপ ভার্দের অন্যতম নায়ক
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের রূপকথার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ভোজিনহা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই আফ্রিকার ছোট দ্বীপরাষ্ট্রটি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো পারফরম্যান্স করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ায়।
গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে চমক দেখায়। পাশাপাশি সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের বিপক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহ করে দলটি গ্রুপ এইচ থেকে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে।
পরবর্তী রাউন্ডে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়াই করেও অল্প ব্যবধানে বিদায় নিতে হয় কেপ ভার্দেকে। তবে পুরো টুর্নামেন্টে ভোজিনহার অসাধারণ গোলরক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বিশ্বকাপ চলাকালীন তাঁর একের পর এক দুর্দান্ত সেভ, আবেগঘন উদযাপন এবং অনুপ্রেরণাদায়ক উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের কাছে পরিচিত মুখে পরিণত হন।
দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতি
কোলো-কোলোতে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে ভোজিনহার দীর্ঘ ও পরিশ্রমী ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি মিলেছে।
চিলিতে আসার আগে তিনি পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেসে খেলেছেন। এছাড়া ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে অ্যাঙ্গোলা, সাইপ্রাস, মলদোভা ও স্লোভাকিয়ার বিভিন্ন ক্লাবেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
বহু বছর ধরে ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন লিগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর বিশ্বকাপই তাঁর প্রতিভাকে বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরে।
চিলির সফলতম ক্লাবে নতুন চ্যালেঞ্জ
কোলো-কোলো চিলির ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ক্লাব। দেশের শীর্ষ লিগে রেকর্ড ৩৪টি শিরোপা জয় করা ক্লাবটি নতুন মৌসুমে অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব যোগ করতে ভোজিনহাকে দলে নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে চাপ সামলানোর সক্ষমতা দলটির রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী করবে।
সামনে নতুন লক্ষ্য
বিশ্বকাপের সাফল্যকে জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে উল্লেখ করলেও ভোজিনহার দৃষ্টি এখন পুরোপুরি ভবিষ্যতের দিকে।
“বিশ্বকাপ আমার ফুটবল জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেটি এখন অতীত। সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। কোলো-কোলোর মতো ঐতিহ্যবাহী ও সফল একটি ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার ক্লাব ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সম্মান। আমি এই নতুন যাত্রা নিয়ে ভীষণ রোমাঞ্চিত।”
বিশ্বকাপে আলোড়ন তোলা এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের আগমনে কোলো-কোলোর সমর্থকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে। ক্লাবটির বিশ্বাস, ভোজিনহার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব ঘরোয়া লিগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেও দলের সাফল্যের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Comments
Post a Comment