রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ, দেশে সাংবিধানিক সংকটের অভিযোগ নাহিদ ইসলামের
ঢাকা:
রোববার দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার মিন্টো রোডের বাসভবনে ১১টি রাজনৈতিক দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, ক্ষমতার পালাবদলের বিভিন্ন সময়ে বিএনপি নিজেদের হাতে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। তার দাবি, এ ধরনের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি সাংবিধানিক সংকটও তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অভিন্ন প্রার্থী ১১ দলের
চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১টি দল ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, জোটের পক্ষ থেকে একজন অভিন্ন প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে। এ পদে প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, ১১ দলের সমন্বিত প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জোটটি।
সাবেক রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের প্রসঙ্গও বৈঠক-পরবর্তী বক্তব্যে তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে।
তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক রাষ্ট্রপতিকে আরও ছয় মাস দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, কেন সাবেক রাষ্ট্রপতির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে কি না।
‘ফ্রি এক্সিট’ দেওয়ার অভিযোগ
সাবেক রাষ্ট্রপতির বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, তাকে কোনো ধরনের বিচারের মুখোমুখি না করে দেশ থেকে ‘ফ্রি এক্সিট’ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো প্রমাণ বা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেননি।
রাষ্ট্রপতি পদ, নির্বাচন এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ার মধ্যেই তার এই বক্তব্য এলো।
রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১টি দলের অভিন্ন প্রার্থী ঘোষণা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একদিকে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা ও নির্বাচন নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে; অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেবল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণের বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হিসেবেও দেখা হয়েছে।
১১ দলের অভিন্ন প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের নাম ঘোষণার ফলে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জোটগত সমীকরণ আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিএনপির অতীত ভূমিকা নিয়ে নাহিদ ইসলামের অভিযোগের বিষয়ে দলটির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

Comments
Post a Comment