ট্রাবজনস্পোরে যোগ দেওয়ার পথে মোহাম্মদ সালাহ, আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু
লিভারপুল অধ্যায়ের পর নতুন ঠিকানার দ্বারপ্রান্তে মিশরীয় তারকা; শিগগিরই তুরস্কে মেডিকেল সম্পন্নের সম্ভাবনা
ইস্তাম্বুল | আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ডেস্ক
মিশরের তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহকে দলে ভেড়ানোর লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে তুরস্কের শীর্ষ ফুটবল ক্লাব ট্রাবজনস্পোর। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে থাকা সালাহকে দলে নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ট্রাবজনস্পোর জানায়, সালাহর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ট্রান্সফার আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্লাবের সভাপতি এরতুঘরুল দোগান পরে স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে সালাহ বুধবার তুরস্কে পৌঁছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মেডিকেল পরীক্ষার পর সালাহ ট্রাবজনে গিয়ে ক্লাবের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেন। যদিও নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা হয়নি, তবে সপ্তাহের শেষ নাগাদ চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লিভারপুলে গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি
প্রায় এক দশক ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলের হয়ে খেলার পর চলতি গ্রীষ্মে ক্লাবটি ছেড়েছেন সালাহ। ২০১৭ সালে অ্যানফিল্ডে যোগ দেওয়ার পর তিনি ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড়ে পরিণত হন।
লিভারপুলের জার্সিতে ৪৪২ ম্যাচে ২৫৭ গোল করে তিনি ক্লাবকে দুটি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এবং একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া এফএ কাপ, লিগ কাপ, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জয়েও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
রেকর্ড গড়া মৌসুমের পর ছন্দপতন
২০২৪–২৫ মৌসুমে সালাহ দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। প্রিমিয়ার লিগে ২৯টি গোলের পাশাপাশি ১৮টি অ্যাসিস্ট করে তিনি এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল-অবদানের যৌথ রেকর্ড স্পর্শ করেন এবং ৩৮ ম্যাচের লিগ মৌসুমে নতুন রেকর্ডও গড়েন।
সেই মৌসুমে তিনি একসঙ্গে প্রিমিয়ার লিগ প্লেয়ার অব দ্য সিজন, গোল্ডেন বুট এবং প্লেমেকার অ্যাওয়ার্ড জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে এক মৌসুমে এই তিনটি সম্মান একসঙ্গে জয়ী প্রথম ফুটবলার ছিলেন তিনি।
তবে পরবর্তী মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্সে কিছুটা ভাটা পড়ে। লিগে ২৭ ম্যাচে সাত গোল ও সাত অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তাঁকে বেশ কয়েকবার বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়। সে সময় তৎকালীন কোচ আর্নে স্লটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা ও বিতর্কও তৈরি হয়।
ইউরোপে দীর্ঘ পথচলার নতুন গন্তব্য
৩৪ বছর বয়সী সালাহ ইউরোপীয় ফুটবলে যাত্রা শুরু করেন ২০১২ সালে সুইজারল্যান্ডের বাসেলের হয়ে। এরপর তিনি ইংল্যান্ডের চেলসিতে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে ইতালির ফিওরেন্তিনা ও এএস রোমার হয়ে খেলেন। রোমায় ধারাবাহিক সাফল্যের পর ২০১৭ সালে লিভারপুলে যোগ দিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটান।
ট্রাবজনস্পোরের বড় পরিকল্পনা
তুরস্কের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ট্রাবজনস্পোর দেশটির ফুটবলে ইস্তাম্বুলের তিন পরাশক্তি—ফেনারবাহচে, গালাতাসারাই ও বেসিকতাসের পর অন্যতম বড় ক্লাব হিসেবে বিবেচিত। গত মৌসুমে দলটি তুর্কি সুপার লিগে তৃতীয় স্থান অর্জন করে এবং আসন্ন উয়েফা ইউরোপা লিগের প্লে-অফে অংশ নেবে।
ক্লাবটির লক্ষ্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী দল গঠন করা, আর সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই সালাহকে দলে ভেড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেসিকতাস থেকে ট্রাবজনস্পোর
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সালাহকে দলে নেওয়ার দৌড়ে প্রথমদিকে এগিয়ে ছিল তুরস্কের আরেক শীর্ষ ক্লাব বেসিকতাস। তবে আর্থিক শর্ত ও বাণিজ্যিক স্বত্ব (ইমেজ রাইটস) নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সেই আলোচনা আর এগোয়নি।
এরপর ট্রাবজনস্পোর দ্রুত আলোচনায় এগিয়ে এসে এখন চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
এখন সবার নজর আনুষ্ঠানিক ঘোষণায়
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে খুব শিগগিরই মোহাম্মদ সালাহকে ট্রাবজনস্পোরের জার্সিতে দেখা যেতে পারে। বিশ্বের অন্যতম সফল এই ফরোয়ার্ডের আগমন শুধু তুর্কি ফুটবলের জন্য নয়, ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের নতুন মৌসুমের অন্যতম বড় ট্রান্সফার হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

Comments
Post a Comment