ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে সাত মার্কিন নৌসদস্য নিহতের দাবি, স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন ও যুদ্ধের চাপ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ইরানি সংবাদমাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের দাবি
তবে মেহর নিউজের এই দাবি এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ কিংবা স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে আপাতত অসমর্থিত দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মেহর নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার কারণে রণতরীটির নাবিকদের মধ্যে মানসিক চাপ ও অসন্তোষ বাড়ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় জাহাজটির ভেতরে সহিংস সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ, নিহত ও আহতদের পরিচয় কিংবা ঘটনার সময় ও স্থান সম্পর্কে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগ
ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং টানা সামরিক কার্যক্রমের কারণে জাহাজটির ক্রুদের ওপর বাড়তি শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
জুলাই মাসে Stars and Stripes–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লিঙ্কন টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে অবস্থান করে আগের একটি মার্কিন নৌবাহিনীর রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের ফলে ক্রুদের মানসিক সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছিল।
সাম্প্রতিক আরও কিছু প্রতিবেদনে জাহাজটির নাবিকদের পরিবারগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, খাদ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি এবং জাহাজের জীবনযাত্রার কঠিন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। কয়েকজন নাবিক সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ক্রুদের মানসিক চাপ ও কল্যাণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার স্বাধীন যাচাই এখনো বাকি
সাত নৌসদস্য নিহত হওয়ার দাবিটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
এর আগে ইরান একাধিকবার রণতরীটিকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করলেও মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ সেসব দাবির কিছু প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্চে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লিঙ্কন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি নাকচ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রণতরীটির কাছাকাছিও পৌঁছায়নি।
এ কারণে নতুন করে ওঠা অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ও সাতজন নিহত হওয়ার দাবির ক্ষেত্রেও স্বাধীন সূত্রের নিশ্চিতকরণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এ মুহূর্তে ঘটনাটি সম্পর্কে মার্কিন নৌবাহিনী বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া না গেলে নিহতের সংখ্যা বা সংঘর্ষের প্রকৃতি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
সুতরাং, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে সাত মার্কিন নৌসদস্য নিহত হওয়ার খবরটি আপাতত ইরানি সংবাদমাধ্যমের একটি দাবি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে; স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

Comments
Post a Comment