মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিল বিএনপি
ঢাকা:
রিজভী বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনও বৃহস্পতিবার। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একাধিক প্রার্থী, প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ তাঁর পক্ষে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
ফলে ১৯৯১ সালের পর এবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট পৃথক প্রার্থী দেওয়ায় এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে না।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী বহাল থাকলে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে প্রায় পাঁচ বছর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাঁকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। তাঁর দলীয় পদগুলোর তথ্য সরকারি নথিতেও উল্লেখ রয়েছে।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফখরুল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। জুলাইয়ের শেষ দিকে মির্জা ফখরুলের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও তখন বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলীয় ফোরামের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে সে সময় ফখরুল নিজেই জানিয়েছিলেন।
এখন বিএনপির আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই অনিশ্চয়তার অবসান হলো।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
বিএনপির দীর্ঘদিনের মহাসচিব হিসেবে তিনি দলটির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এবার রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর মনোনয়ন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের সূচনা করেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল অবশ্য নির্ভর করবে মনোনয়নপত্র যাচাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের ভোটের ওপর।

Comments
Post a Comment