প্রায় তিন বছর পর ফিরছে ফিলিস্তিনি ক্লাব ফুটবল
আল-বিরেহ, পশ্চিম তীর:
ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) প্রতিযোগিতাটির নাম দিয়েছে ‘থাউজ্যান্ড মার্টিয়ার্স কাপ’। সংঘাতের সময় নিহত ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদদের স্মরণে এই আয়োজনকে দেশটির ফুটবল পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার পশ্চিম তীরের আল-বিরেহতে অবস্থিত জোসেফ ব্লাটার একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্ট শুরুর ঘোষণা দেন পিএফএ সভাপতি জিব্রিল রাজুব। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং দেশে ও বিদেশে থাকা ফিলিস্তিনিদের জন্য আশা ও স্বাভাবিক জীবনের একটি উপলক্ষ তৈরি করা।
একই সঙ্গে আর্থিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকট মোকাবিলায় ফিফা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
তিন অঞ্চল থেকে ২২৬ ক্লাব
প্রথম আসরে অংশ নিচ্ছে মোট ২২৬টি ক্লাব। এর মধ্যে পশ্চিম তীরের ১৪৬টি, গাজার ৪৪টি এবং লেবাননের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোর ৩৬টি ক্লাব রয়েছে।
প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্ব আঞ্চলিক ও সংশ্লিষ্ট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের শাখাভিত্তিক গ্রুপ পদ্ধতিতে আয়োজন করা হবে। তিন অঞ্চলে একই সময়ে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পশ্চিম তীরে জাবাল আল-মুকাবের মুখোমুখি হবে শাবাব আল-খলিল। গাজায় শাবাব রাফাহ খেলবে খাদামাত রাফাহর বিপক্ষে। আর লেবাননের আইন আল-হিলওয়া ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে মুখোমুখি হবে আল-আনসার ও আল-নাহদা।
টুর্নামেন্টটি মূলত একটি অন্তর্বর্তী আয়োজন হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরবর্তী মৌসুম থেকে নিয়মিত লিগ কাঠামো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে পিএফএর।
নিহত ক্রীড়াবিদদের স্মরণে টুর্নামেন্ট
প্রতিযোগিতাটির নামকরণ করা হয়েছে সংঘাতে নিহত ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদদের স্মরণে।
পিএফএর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে সংঘাতের সময় ১ হাজার ১৪ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ নিহত হয়েছেন। পশ্চিম তীর, গাজা ও লেবাননের জন্য পৃথক তিনটি ট্রফি তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি ট্রফিতে ওই ১ হাজার ১৪ জন ক্রীড়াবিদের নাম সংযুক্ত থাকবে।
এর মাধ্যমে টুর্নামেন্টটি শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন হিসেবে নয়, নিহত ক্রীড়াবিদদের স্মরণে একটি প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবেও সামনে আনা হচ্ছে।
অর্থ ও অবকাঠামো বড় চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘ বিরতির পর ক্লাব ফুটবলের প্রত্যাবর্তন ঘটছে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও অবকাঠামোগত সংকটের মধ্যে। পিএফএ জানিয়েছে, নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী প্রতিটি ক্লাবকে সমান আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। সরঞ্জাম কেনা এবং যাতায়াতের ব্যয় মেটাতে সেই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে ক্লাবগুলো।
জিব্রিল রাজুব বলেছেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ফিলিস্তিনিরা তাদের দৃঢ়তা ও বিশ্বাস ধরে রেখেছে। তাঁর মতে, খেলাধুলা এখনো ফিলিস্তিনিদের কাছে আশা ও জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
পিএফএর দৃষ্টিতে, ফুটবলের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি অস্থায়ী প্রতিযোগিতা আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দীর্ঘ বিরতির পর নিয়মিত ঘরোয়া ফুটবল পুনরুদ্ধারের জন্য এটি একটি ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
৪ সেপ্টেম্বরের এই আয়োজন তাই ফিলিস্তিনি ফুটবলের ক্যালেন্ডারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের দিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে—যেখানে সংঘাতে নিহত ক্রীড়াবিদদের স্মৃতি ধারণ করেই আবার প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরবে ক্লাবগুলো।

Comments
Post a Comment